বিশ্ব কন্যা দিবস ২০২৩ উদযাপন
Date :
15-Oct-2023
কন্যা শিশুর প্রতি জেন্ডারভিত্তিক বৈষম্য রোধ, তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সুষ্ঠু বিকাশের বিষয়টিকে বৃহত্তর সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে ২০০০ সালে তৎকালীন সরকারের মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় একটি সরকারি আদেশের মাধ্যমে ৩০ সেপ্টেম্বরকে “জাতীয় কন্যা শিশু দিবস” হিসেবে পালনের ঘোষণা দেন। তখন থেকেই প্রতিবছর যথাযোগ্য মর্যাদায় সারাদেশব্যাপী দিবসটি পালিত হচ্ছে। প্রতি বছর এর একটি প্রতিপাদ্য বিষয় নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। যেমন ‘শিক্ষা-পুষ্টি নিশ্চিত করি, শিশু বিয়ে বন্ধ করি’ ‘কন্যা শিশুর অগ্রযাত্রা, দেশের জন্য নতুন মাত্রা’ ‘আমরা সবাই সোচ্চার, বিশ্ব হবে সমতার’, ‘বিনিয়োগে অগ্রাধিকার-কন্যা শিশুর অধিকার’। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিবছর দেশব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি উদ্যাপন করে।rnবিশ্ব শিশু দিবস, শিশু অধিকার সপ্তাহ ও কন্যা শিশু দিবসnশিশুদের বিভিন্ন মৌলিক অধিকার, সুরক্ষা এবং শিশুর উন্নয়ন ও বিকাশে সংশ্লিষ্ট সকলকে অধিকতর উদ্যোগী ও এই বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার প্রতিবছর অক্টোবর মাসের প্রথম সোমবার ‘বিশ্ব শিশু দিবস ও এর পরের ৭দিন জাতীয় শিশু অধিকার সপ্তাহ’ পালন করে থাকে। সপ্তাহ ব্যাপী আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের একটি দিন বিশেষভাবে নির্ধারিত থাকে কন্যা শিশুদের জন্য। এ লক্ষ্যে জাতীয় শিশু অধিকার সপ্তাহের দ্বিতীয় দিনকে কন্যা শিশু দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবস\বাংলাদেশে জাতীয় কন্যা দিবস ছাড়াও জাতিসংঘের এক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিবছর ১১ অক্টোবর “আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবস” হিসেবে পালন করা হয়। মেয়েদের শিক্ষার অধিকার পুষ্টি সহায়তা ও ন্যায় অধিকার, চিকিৎসা সুবিধা ও বৈষম্য থেকে সুরক্ষা নারীর বিরুদ্ধে হিংসা ও বলপূর্বক বাল্যবিবাহ বন্ধে কার্যকর ভূমিকা পালনের উদ্দেশ্যে এই দিবসের সূচনা হয়। ২০১২ সালে সারা বিশ্বব্যাপী এ দিবসটি পালন করা শুরু হলেও বাংলাদেশে এর পরের বছর অর্থাৎ ২০১৩ সাল থেকে “বিশ্ব কন্যা শিশু দিবস” পালন করা হচ্ছে।nউল্লেখ্য যে শিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সচেতনতা সৃষ্টির জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বছরের একাধিকবার বিভিন্ন নামে শিশু দিবস পালন করা হয়। এর পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশগুলো বিভিন্ন সময় নিজেদের মতো করে পালন করে জাতীয় শিশু দিবস। যেমন আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে ২৪ জানুয়ারি “জাতীয় কন্যা শিশু দিবস” উদ্যাপন করে থাকে। এর বাইরে ভারত জাতিসংঘ ঘোষিত ১১ অক্টোবর “আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবস”ও পালন করে থাকেকথা অনস্বীকার্য যে, কন্যা-জায়া-জননীগণ অন্ধকারাচ্ছন্ন, কুসংস্কার, পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা ও ধর্মীয় আবরণে হাজার হাজার বছর ধরে যেরকম নির্যাতিত-নিপীড়িত হয়েছিল, অধিকার বঞ্চিত হয়েছিলো তা বর্তমান বিশ্বে অনেকটাই কমে এসেছে। অনেক ক্ষেত্রেই নারীরা নিজের অধিকার আদায়, গ্রহণযোগ্যতা ও সক্ষমতা প্রদর্শন করছে। তথাপি বিশ্ব বাস্তবতায় কন্যা শিশুর শারীরিক যত্ন, একটি নিরাপদ, সমতাভিত্তিক সমাজ ও তাদের প্রাপ্য ন্যায্য অধিকার সমূহ এখনো পুরোপুরি অর্জিত হয়নি। এখনো দেশে দেশে নানান স্থানে, নানান ভাবে মেয়ে শিশুদেরকে বঞ্চিত করা হয়। তাদের খাদ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, পোষাক-পরিচ্ছেদসহ নানা মৌলিক চাহিদা থেকেই বঞ্চিত করা হয়। ক্ষেত্রবিশেষে কন্যাশিশু বঞ্চিত হয় তার নিজের ঘরে, নিজের বাবা-মা ও নিকট আত্মীয়দের কাছ থেকে। তাই কন্যা শিশুর জন্য একটি সমতাভিত্তিক নিরাপদ বিশ্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে জনসচেতনতার বিকল্প নেই। সুতরাং এসব দিবস পালনের পালনের গুরুত্ব কম নয়