দীর্ঘ সাতচল্লিশ বৎসর পর রওশন আরা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রথম ম্যাগাজিন প্রকাশের সংবাদে সৎপরনাস্তি আনন্দিত, অভিভূত ও আশাম্বিত হলাম। সেই সাথে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব আছমা আক্তারের ঐকান্তিক প্রচেষ্ঠা, উদ্যম, অনুপ্রেরণা এবং অন্যান্য শিক্ষক, কর্মচারী, ছাত্রছাত্রীবৃন্দের সহযোগিতায় সে বিদ্যালয়ের একদা সবার অলক্ষ্যে, অজান্তে হাটি-হাটি, পা-পা করে নিভৃতে, নির্জনে অন্ধকারাচ্ছন্ন প্রান্তিক লোকালয়টি থেকে সামান্য আলোক বতীকার দিকে অনেক আশা নিয়ে অগ্রসর হতেছিল, আজ ম্যাগাজিন প্রকাশের মাধ্যমে তারই কিছুটা পার্থকতা খোঁজে পেলো এ বিদ্যালয়টি। আজ একান্তভাবে স্মরণে আসছে এ রওশন আরা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা আমার শ্রদ্ধের পিতা মরহুম আবুল মোহসিন তরফদার ও যার নামে বিদ্যালয়ের পথ চলব সেই স্নেহময়ী, নারী শিক্ষার প্রেরণা দায়িনী মাতা মরহুমা রওশন আর আখতার মহোদয়া আজ তাঁদের কেহ বেঁচে নেই। বেঁচে থাকলে অবশ্যই এর সফল্য দেখে উৎসাহিত হতেন। আমি একজন রওশন আরা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে তাঁদের সাহচর্যে এবং পরবর্তী সময়ের অন্যান্যদের সহযোগিতায় বিদ্যালয়ের শুভ কামনায়, উন্নয়নে, ভবিষ্যৎ অগ্রগতিতে সামান্য অবদান রাখতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। ১৯৭৭ সনে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাতা লগ্ন হতে এই পর্যন্ত মৃত বা জীবিত যারা বিভিন্নভাবে সাহায্য, সহযোগিতা, উৎসাহ, প্রেরণা, সর্বোপরি বিদ্যালয়ের উন্নয়নকে এগিয়ে নেবার জন্য ধৈর্য্য ও সহনশীলতার স্বাক্ষর রেখেছেন তাদেরকেও জানাই আমার বিনম্র সালাম, প্রীতি, প্রেম, অনাবিল পরিবেশ বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, কর্মচারী, হিতৈষীবিন্দ, সর্বস্তরের এলাকাবাসীর স্বদিচ্ছা, একান্ততা ও সহযোগিতার বিদ্যালয়টি আলোর পানে এগিয়ে যাক এই প্রত্যাশায় রইল। এ ম্যাগাজিন প্রথম প্রকাশ এবং উত্তরোত্তর প্রকাশের মাধ্যমে কমলমতি শিশুদের মননশীল ও সৃজনশীল বিকাশে এ বিদ্যালয়টি হয়ে উঠুক এক প্রতিভা বিকাশের অনন্য চরণভূমি।